দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানি করছে সরকার। পাশাপাশি কৃষক ঘরে তুলেছে আমন ধান। এরই মধ্যে দিনাজপুরের হিলি বাজারে চাল সরবরাহ বেড়েছে। তবে কমছে না দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বন্দরে পাইকারিতে চালের দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা করে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের বাজারে চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় দেশের বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এছাড়া মিল মালিকদের সিন্ডিকেটও এক্ষেত্রে কিছুটা দায়ী।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। কোনোদিন তা ১০০ ট্রাক ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর পরও বন্দরে কয়েকদিন আগেও ভারতীয় স্বর্ণা জাতের চালের দাম ছিল ৫০-৫১ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৫২-৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিকন জাতের শম্পা চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭১ টাকায়, আগে যা ছিল ৬৬-৬৭ টাকা।
বন্দর থেকে আরো জানা যায়, ৪০৯৪ জাতের চাল বর্তমানে ৬৪-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, আগে যা ছিল ৬২-৬৩ টাকা।
এছাড়া খুচরা বাজারে স্বর্ণা চাল ৫৪-৫৫ টাকা, শম্পা ৭৩-৭৪ ও দেশী মিনিকেট ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব চাল কয়েকদিন আগেও ৪-৫ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল।
আমদানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলেও ভারতীয় রফতানিকারকরা এর দাম টনপ্রতি ২০-৩০ ডলার করে বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার বাংলাদেশে চালের চাহিদা বেড়ে গেলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণে দেশের বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়ছে।
তবে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ‘আমনের ভরা মৌসুম চলছে। সেই সঙ্গে বন্দর দিয়ে প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে। বাজারে এখন চাল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। দাম খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’